দিনাজপুরে নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন প্রতিরোধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি : | প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৫ |   

দিনাজপুরে নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন প্রতিরোধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন প্রতিরোধে দিনাজপুরবাসী সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও পল্লীশ্রী এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং নারীর বিরুদ্ধে শারীরিক, মানবিক নিপীড়নের ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। নারীকে বিভিন্ন ভাবে যৌনহেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। এ ছাড়াও ওয়াজ মাহফিলের নামেও নারীর বিরুদ্ধে অশালীন, অগ্রহনযোগ্য কথা বলা হচ্ছে, আপত্তিকর প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এইসব ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত এবং আতংকিত।

শামীম আরা বেগম বলেন,গেল ৫ মার্চ মাগুরা শহরে আছিয়া নামের ৮ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যখন জানা যায় যে, এই ধর্ষনের ঘটনা ঘটিয়েছেন মেয়েটির বড় বোনের আপন শ্বশুর, স্বামী, দেবর তখন আমরা যে মানুষ, তা ভাবতে লজ্জাবোধ করি। সেই শিশুটি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমাদের মাথা লজ্জায়, ঘৃণায় আরো নিচু হয়ে যায় যখন জানাতে পারি যে, আপন কন্যাকে ধর্ষণের সাথে পিতা জড়িত থাকেন, যা চট্টগ্রামের কোতয়ালীতে সংঘটিত হয়েছে। আমরা বুঝে উঠতে পারছি না যে, মানুষ কিভাবে এই রকম অসভ্যতার দিকে ধাবিত হতে পারে। আমরা বিচলিত যে, আমরা কোন অসুস্থ্য সমাজে বসবাস করছি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,পোশাকের কারনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নীপিড়নমূলক ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে প্রমীলা ফুটবল আয়োজন বাধা গ্রস্ত হয়েছে। কিছু লোক নারী-কন্যাদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাসহ সৃজনশীল কর্মকান্ড হতে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। তারা মূলত নারীকে ঘরবন্দী করতে চাইছে। এছাড়াও বর্তমানে পথে ঘাটে, অফিসে, স্কুল-কলেজে, ইউনিভার্সিটিতে নানাভাবেই নারী ও কন্যাদের উৎপীড়ন করা হচ্ছে। হিজাব কেন পড়া হয় নাই, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এইসব ঘটনায় যখন রাষ্ট্রের পক্ষ হতে নারীকে সুরক্ষা দেয়া দরকার, তখন দেখছি যে, ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত ও যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিন দেয়া হয়েছে।

শামীম আরা বেগম আরো বলেন,পার্বতীপুরের পুজা রানী রায় ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন দন্ড প্রাপ্ত আসামী সাইফুল ইসলামের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ছয় বছর মামলা চলার পর অভিযুক্ত আসামীর দন্ড হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এই নরপিশাচকে জামিন দেয়া হয়েছে। অবশ্য সমাজের নানান্তরে এর প্রতিবাদ হওয়ায় জামিন বাতিল হয়েছে। কিন্তু এর পরেও আমরা উদ্বিগ্ন। ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া। এবং নারীর প্রতি যৌনহেনস্তা, নিপীড়নমূলক কর্মকান্ডে বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আমাদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। আমরা এইসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে যে 'আইনগুলো হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছেনা। ফলে অপরাধীরা দিনের পর দিন দুঃসাহসী হয়ে উঠছে এবং আইন-কানুনকে তুচ্ছজ্ঞান করে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা, নীপিড়ন চালিয়ে যাচ্ছে বলে লিখিত বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেছেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাব সম্মুখ সড়কে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন প্রতিরোধে দিনাজপুরবাসী সংগঠনটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কিছু দাবী জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা দমনে যে সকল আইন বলবৎ রয়েছে, সেই আইনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ ঘটানো হোক। নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে যথাযথ শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। নারী-শিশুর প্রতি যৌনহেনস্থা, উৎপীড়নে জড়িতদের গ্রেফতার ও শান্তি দেয়া হোক। নারীর পোশাক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ করা হোক। নারী যেন অবাধে, মুক্ত পরিবেশে সমাজের সর্বত্র বিচরণ ও অংশগ্রহন করতে পারে রাষ্ট্র কর্তৃক তার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হোক এবং নারী নীপিড়নের সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ কোনভাবেই যেন ছাড়া না পায় তার নিশ্চয়তা তৈরী করা হোক এবং ইতোপূর্বে যারা দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছে, দন্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন ছাড়া না পায় তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হোক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন প্রতিরোধে দিনাজপুরবাসী সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুজ্জামান তারেক ও কানিজ রহমান, সদস্য উম্মে নাহার,এ এস এমন মনিরুজ্জামান ও রেজাউর রহমান রেজু প্রমুখ।


মন্তব্য লিখুন :