শেখ হাসিনা ও পরিবারের সম্পদ জব্দ, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নামে বিপুল অর্থ লোপাটের অভিযোগের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ও তার
পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিব সম্পদ জব্দের আদেশ দেন।
দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন উপস্থাপন করেন।
জব্দের আদেশ দেওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিকের নামে গুলশানের ফ্ল্যাট, যার দলিল মূল্য ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৯২০ টাকা।
সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ধানমন্ডিতে থাকা ১৬ কাঠা জমিসহ বাড়ি, যার দলিল মূল্য তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা।
রেহানা সিদ্দিকের সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকার সাড়ে ৮ শতাংশ জমি, একই জায়গার ৩ লাখ টাকা মূল্যের ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমি ও সেগুনবাগিচায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট।
এছাড়াও রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে গুলশানে থাকা ছয়টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে দুদকের আরেক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন— শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে,
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৫৯ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্ত চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে দুদক আদালতে জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গোপনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
দুদকের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম আদালতে আবেদন করেন এবং তদন্তের স্বার্থে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। আদালত তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেন।