মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশু
দু’দিনেও জ্ঞান ফেরেনি শিশুটির, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা

হাসপাতালের নিরব পরিবেশে, একটি ছোট্ট শরীর বিছানায় শুয়ে আছে। আট বছরের একটি শিশুর নিথর দেহ, চোখে নেই কোনো আলোর ঝলক। মুখে কোনো শব্দ নেই, নড়াচড়া যেন বিলীন হয়ে গেছে। কেবল কপালে এবং বুকে লেগে থাকা ইভেন্টগুলির অব্যক্ত চিহ্নই বলে দেয়—এটি শুধুই এক নিরব যুদ্ধ। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসা চলছে মাগুরায় বোনের বাড়িতে ধর্ষণ হওয়া আট বছরের শিশুর। সাদা দেয়ালে ঘুরে চলা সময়ের সঙ্গে শিশুটি যুদ্ধ করছে—অবধি থেমে থাকা, অথচ তার শরীরের প্রতিটি কোষ কেবল টানছে প্রাণের তীব্র আহ্বান। জীবনের সৌন্দর্য, আশা, স্বপ্ন, সবকিছু যেন এক মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে, আর বেঁচে থাকার জন্য একমাত্র আশ্রয়—হাসপাতালের সাদা আলোয় নিজেকে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
ধর্ষণের শিকার এই শিশুটি। আর তার পাশে বসেই অঝরে কাঁদছেন মা। এক হাতে সন্তানের মাথায় স্নেহের স্পর্শ রেখে, আরেক হাতে নিজের চোখের অশ্রু মুছছেন। মেয়ের এই নিঃসাড়, কষ্টভরা অবস্থা দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মেয়েটির মা। আশপাশের পরিবেশ নির্বাক, যেন চারপাশের দেওয়ালও বোবা হয়ে গেছে এই অসহ্য যন্ত্রণার সামনে।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ)-তে ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুটির নিথর পড়ে আছে। গত তিন দিনেও তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
কান্না জড়িত পায়ে তিনি ধীরে ধীরে ওয়ার্ডের গেটের সামনে আসেন, যেখানে অপেক্ষমাণ স্বজনরা উৎকণ্ঠায় দাঁড়িয়ে। তাদের একজনকে আকড়ে ধরে তিনি বলেন, "আমার মেয়ে কথা বলছে না, ডাকলেও সাড়া দিচ্ছে না। ওদের ফাঁসি চাই!"—কথাগুলো যেন বাতাসে জমে থাকা অজস্র প্রশ্নের মতো প্রতিধ্বনিত হয়।
ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বড় মেয়ে তাঁকে জানান, শ্বশুরবাড়িতে রাতে তার ভয় লাগে। এ জন্য ছোট বোনকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। তার আবদারের মুখে গত শনিবার ছোট মেয়েকে বড় মেয়ের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। কিছুদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। পরে গলায় কিছু পেঁচিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রধান অভিযুক্ত বোনের শ্বশুর হিটু শেখ (৪৭) ও স্বামী সজিব শেখকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। এদিকে শিশুকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে মাগুরার সাধারণ মানুষ। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে তারা মাগুরা সদর থানা ঘেরাও করে।